Download LoveSpot Theme!
Search
Home » Category » Life Story
ভালোবাসার বাস্তব গল্প কাহিনী Posted by , 1 year ago, 34 Views

ভার্সিটিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিচ্ছিলাম এমন সময়”ঠাস” কি হলো পুরো
ভ্যাবচেকা খেয়ে গেলাম সামনে তাকিয়ে
দেখি চিকন গড়নের একটি মেয়ে তার
চোখগুলো রাগে আগুনের ফুলকির মতো হয়ে
গেছে কিছু বুঝে উঠার আগে মেয়েটি ঝাড়া
শুরু করল-
¤নিজেকে অনেক স্মার্ট ভাবো তাই না।
¤মানে কি বলছেন?
¤তোমাদের মতো ছেলেদের কাজই এটা
মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে ধোকা
দেওয়া।
আমি তখনও হা করে তাকিয়ে ছিলাম মেয়েটা
এসব কি বলছে উল্টা পাল্টা।এমন সময়
মেয়েটির একটি ফ্রেন্ড ওকে ডাক দিল
¤অর্পিতা এই অর্পিতা কি হয়েছে?
¤ফারজানা এই যে তোর কালপিট বয়ফ্রেন্ড
আগে থাপ্পড় মেরে শিক্ষা দে ওকে।
¤কি বলিস এসব উনি তো আমার বয়ফ্রেন্ড
নন। আমার বয়ফ্রেন্ড তো আমার সাথেই আছে।
আমরা মজা করছিলাম দুজনে আর তুই তা
সিরিআসলি ভাবলি।
এতক্ষন আমি চুপ করে দাড়িয়ে ছিলাম
ফারজানার কথাগুলো শুনার পর অনেক রাগ
হচ্ছিল।
¤ভাইয়া সরি,আমি আসলে বুঝতে পারিনি।
প্লিজ ক্ষমা করে দিন।
¤হুম খালি সরি বলে তো আর সব সমস্যা
সমাধান হয় না আপু থাপ্পড়টা যে মারলেন
তার কি হবে।
মেয়েটা তখন আরও রেগে গিয়ে বলল-
¤ওকে তাহলে আমাকে থাপ্পড় মারুন হিসাব
বরাবর হয়ে যাবে।
¤হাতটা কিছুক্ষন আগে ধুয়ে আসছি ময়লা
করতে চাচ্ছি না।বাই।
এই বলে আমি হাটা ধরলাম।পেছনে তাকিয়ে
দেখি মেয়েটি রাগে দাত খিটমিট করতেসে।
২:
পরে একদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার
জন্য লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম তাকিয়ে দেখি
এতবড় লাইনে আমি সবার পেছনে একটু পরে-
¤এই যে মিস্টার এতো নড়াচড়া না করে
স্থির হয়ে দাড়ান।
কন্ঠটা চেনা চেনা লাগল আমার কাছে।
পিছনে ফিরে দেখি সেই রগচটা মেয়েটি।
¤আমার জায়গায় আমি যা ইচ্ছা করব কারও
কথা শুনা প্রয়োজন মনে করি না।
¤ব্যবহার শিখেন নাই না কথা বলতে
পারেন না পুরাই মুর্খ।
¤হা হা ওই মেয়ে তোমার কি ওইটা মাথা
না চুলা আমি যে বুয়েটিয়ান তুমি কি তা
দেখোনা।তুমি নিজে তো দেখছি মুর্খ।
¤জ্বী বুয়েটিয়ান সেন্সলেস আপনি ভুলে
যাচ্ছেন আমি আর আপনি একই ভার্সিটিতে
পড়ি।
মেয়েটির সাথে ঝগড়া করতে করতে কখন যে
আমাদের ডাক আসল টের পাইনি।স্যার এর
সামনে আমরা দুজন দাড়িয়ে আছি তখন স্যার
মেয়েটিকে বলল
¤ক’টা করেছ?
¤জ্বী স্যার পাঁচটা।
¤এত কম করলে তো হবেনা নেক্সট টাইম আরও
বাড়িয়ে করে সাইন করাবা।এখন সাইন দিতে
পারব না।এই ছেলে তুমি ক’টা করেছ?
¤স্যার বারোটা।
¤গুড বয়। দাও সাইন করে দেই।
আমি মেয়েটিকে দেখিয়ে শার্টের কলারটা
উপরে উঠালাম।মেয়েটি ভেংচি মারল
আমাকে
¤এই ছেলে তোমার শার্টের কলার উচু করে
রেখেছ কেনো? নামাও এখনি।
স্যার এর ধমকে কলারটা নামিয়ে খাতাটা
নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।মেয়েটির
দিকে তাকিয়ে দেখি হো হো করে হাসছে।
মেয়েটির হাসিটা অনেট মিষ্টি লাগল
আমার কাছে।আমি মাথা নিচু করে চল
আসলাম।
৩:
তারপর একদিন বিকেল বেলা বাসায়
ল্যাপটপে ফেবুতে লগইন দিলাম।ব্যস্ততার
কারনে ফেবুতে তেমন একটা বসা হয় না ঢুকে
দেখি ৬০ টা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। তখন
একটা আইডি চোখে পড়ল “নীল অপরাজিতা”
ভেতরে ঢুকে তেমন কোন তথ্য পেলাম না
আমাদের ভার্সিটির ছবি ভাবলাম হয়ত
চেনা কেউ হবে।তাই একস্যাপ্ট করে ফেললাম
সাথে সাথে মেসেজ আসল-
¤বন্ধু করার জন্য ধন্যবাদ।
¤জ্বী আপু আমি আপনাকে ঠিক চিনতে
পারলাম না দয়া করে পরিচয় টি দিন।
¤এতো জলদি কেনো। জানবেন ধীরে ধীরে
সবই জানবেন।
¤আপনার ইচ্ছা।
এই বলে লগআউট না করেই জলদি রেডি হয়ে
টিউশনি করাতে চলে গেলাম।রাতে আবার
কিছু সময়ের জন্য ফেবুতে ঢুকলাম।ঢুকে দেখি
নীল অপরাজিতা আইডি থেকে ৫টা মেসেজ
[ব্যস্ত!রি পলাই নাই কেন। অনলাইন এ
আছেন ]এরকম ধরনের।আমি সাথে সাথে কী-
বোর্ড চাপলাম।
¤আরে না আমি লগইন রেখেই চলে গেছিলাম।
¤ও আচ্ছা ঠিক আছে। এখন কি ফ্রি আছেন?
¤হুম। এখন আপনার পরিচয়টা বলুন?
¤না পরে।
এভাবে আমাদের ডেইলি কথা হতো আমিও এখন
সবসময় ফেবুতে থাকি মেয়েটির সাথে কথা
বলতে খুব ভালো লাগে।আর আমি ওর কাছে
প্রতিদিন ওর পরিচয় জানতে চাইতাম ও শুধু
পরে বলবে বলত। এভাবে ১ বছর কেটে গেল
তবুও অপরাজিতা ওর সর্ম্পকে কিছুই বলে না।
আর সবসময় আমার সর্ম্পকে সবকিছু জানতে
চায়।আমি কিছু না বললে খুবই রাগ করে।
আমিও কেমন জানি ওর উপর র্দূবল হয়ে যাই।
কিন্তু এইবার আমি জিদ করে ওকে বললাম
¤তুমি তোমার পরিচয় আর ছবি না দেখালে
আমি আর ফেবুতে আসব না।
¤আমাকে দেখবে ওকে আজ বিকেল ৫ টায়
টিএসসি আসো। তাহলেই আমাকে দেখতে পাবে
তখনই সব বলবো।
¤কিন্তু আমি তোমাকে চিনব কিভাবে?
¤আমি নীল শাড়ি পড়ে আসব।
¤আচ্ছা ঠিক আছে।
আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৩.৩০
বাজে দেরি না করে জলদি ফ্রেশ হয়ে রেডি
হয়ে বের হলাম।মনের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি
অন্যরকম খুশি লাগছে।আমি ৩০ মিনিট আগে
গিয়ে পৌছালাম।অনেক খোজাখুজি করলাম
কিন্তু নীল শাড়ি পড়া কোনো মেয়েকে দেখতে
পেলাম না।অপেক্ষা করতে থাকলাম।রাত ১০
টা বেজে গেল আমি বাসায় চলে গেলাম।
সেদিন আমার খুব রাগ হচ্ছিল।ঠিক করলাম
আর ফেবুতে বসবনা।
৪:
পরদিন সকালে ভার্সিটির বারন্দায় চুপ
করে বসে ছিলাম।মনটা আজ খারাপ।
অপরাজিতাক ে আজ আমি খুব ভালোবেসে
ফেলেছি।
এমন সময় দেখি অর্পিতা আমার চুলগুলো টান
দিয়ে দৌড় দিয়ে কিছুদূর গিয়ে আমাকে
ভেংচি কাটতে লাগল আর কি যেন বলছে
আমার মন সেদিকে নেই তাই কি বলছে স্পষ্ট
বুঝতে পারিনি। আমি ওর কথায় কান না
দিয়ে অপরাজিতার কথা ভাবতে লাগলাম।
নীল অপরাজিতাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে
হঠাৎ আমার মনে হলো আমি নীল রংয়ের কিছু
দেখেছি কিন্তু কি দেখেছি তা মনে পড়ছে
না।চারদিকে তাকালাম আমার বুক ধড়ফড়
করছে এমন সময় চোখ পড়ল অর্পিতার উপর ও
নীল শাড়ি পড়ে দাড়িয়ে আছে অনেক সুন্দর
লাগছে ওকে নীল শাড়িতে। এখনও আমাকে
ভেংচি কাটছে এবার আমার চারপাশের
কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছি না আমার কানে শুধু
অর্পিতার কন্ঠ ভেসে আসছে
¤কি কেমন ঘুরালাম আমার সাথে তর্ক হুম।
আমি কখনও হারিনি।
¤দাড়াও দেখাচ্ছি তোমাকে।এই বলে আমি
ওর পিছে দৌড়াতে লাগলাম।সিড়ির কাছে
গিয়ে ও হোচট খেলো।আমি ওকে ধরে টান
দিয়ে বুকে নিলাম।আর ছাড়বনা
পাগলিটাকে।
¤ছাড়ো আমাকে? ধরে রাখলে সারাজীবনের
জন্যে ধরে রাখতে হবে পারব?
¤শুধু বিশ্বাস রেখো আমার ওপর এই বলে
অর্পিতার কপালে চুমু দিলাম।
আজ আমার কাছে সবকিছু নতুন লাগছে নতুন
জীবন শুরু করতে যাচ্ছি।আপনারা আমাদের
জন্য দোয়া করবেন।

Leave a Reply

Topics

Blogroll