Download LoveSpot Theme!
Search
Home » Category » Life Story
সকাল সকাল আমার কোটি টাকার ঘুম ভেঙ্গে গেল সামান্য একটি ফোন কলে Posted by , 9 months ago, 25 Views

সকাল সকাল আমার কোটি টাকার ঘুম ভেঙ্গে গেল
সামান্য একটি ফোন কলে।পর পর তিনবার কেটে দেয়ার
পর আবার কল দিল। রাগে দুঃখে ফোনটা রিসিভ করতেই
অপর পাশ থেকে শুরু হল ঝাড়ি……
-অই তোমার ফোন রিসিভ করতে এত সময় লাগে কেন?
সারাদিন শুধু গরুর মত পড়ে ঘুম পারা ছাড়া কি আর
কোনো কাজ নেই! আশেপাশে কি হয় তার কি কোন খবর
রাখ?
ভাবলাম একটু রাগ দেখাবো,তার আগেই মহারাণীর
ঝাড়ি শুনতে হইল।কি আর করার শান্ত গলায় উত্তর
দিলাম(পাঁচটা না দশটা না একটাই প্রিয়তমা)।
-কি হইছে আমার গাভীটা এত চিল্লায় কেন?
-কি..তুমি আমাকে গাভী বলতে পারলা?(তৃথি)
-আজব তো,আমি গরু হলে তুমি তো গাভী তাই না!!
-শোন,একদম ফাজলামি করবা না কিন্তু!
-আচ্ছা তোমার কি হইছে,এত রেগে আছ কেন বলোতো?
-তুমি এক্ষুনি ভার্সিটিতে আসো তারপর বলবো।
-আচ্ছা আসতেছি।
কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিলাম।তারাতারি ফ্রেশ
হয়ে বেরিয়ে পরলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। আমার বাসা
থেকে ভার্সিটি যেতে দশ মিনিট সময় লাগে,তাই
হেটেই যাচ্ছি।হাটতে হাটতে ওর রেগে থাকার কারনটা
নিয়ে ভাবছি।আগে হয়তো বুঝতাম না,কিন্তু এখন আর
কারনটা অজানা নেই।ওর বাসা থেকে ওকে বিয়ে
দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।কিন্তু ও শুধু আমার
অপেক্ষায় বসে আছে।কবে আমার একটা ভালো চাকরি
হবে,কবে আমি ওর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব।
আমাকে একটু বেশিই ভালোবাসে,তাই আমাকে ছেড়ে
থাকতে চায় না।সবে মাত্র আমার অনার্স ফাইনাল
পরীক্ষার রেজাল্ট বের হইছে,ইচ্ছে ছিল মাস্টার্স
কম্প্লিট করে চাকরি করবো।কিন্তু তৃথির কথা ভেবে
এখনই চাকরি খোজা শুরু করেছি কারন ওকে ছা আমিও
থাকতে পারব না। আশা করতেছি তারাতারি একটা
ভালো চাকরি পাবো,কেননা আমার অনার্সের রেজাল্ট
মোটামুটি ভালো।কথাগুলো ভাবতে ভাবতে
ভার্সিটিতে পৌছে গেছি।ক্যান্টিনে গিয়ে দেখি তৃথি
বসে আছে।ওর মুখটা আজ অনেক শুকনা লাগছে,মনে হচ্ছে
সারারাত ঘুমায়নি।আমি ওর পাশে গিয়ে বসতে বসতে
বললাম
-সরি জান আসতেএকটু দেরি হয়ে গেল!
-দেরি তো হবেই এখন তো আর আমাকে ভালো লাগে
না,তাইনা?
-তা ঠিক।আমি তো একটা হাসিমাখা রুপের প্রেমে
পড়েছি,কিন্তু সেই রুপটা আর খুজে পাইতেছিনা।
-তুমি সবকিছু নিয়ে এত মজা কর কেন?
-এমনি,আচ্ছা তুমি নাস্তা করছো?
-না,তুমি?
-হ্যা।
-ভালো।তো কি খাইলা?
-তোমার ঝাড়ি।
-আবার ফাজলামি,তোমাকে নিয়ে যে কি করি?
-বিয়ে করবা আমাকে?
-হু,আইছে। -ঠিক আছে।তাইলে অন্য মেয়ে দেখতে হবে!
-আবার!!(একটু রেগে)
অতঃপর ক্যান্টিন থেকে নাস্তা করে তৃথিকে বাসা
পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসলাম।আজকে একটা জব
ইন্টারভিউ আছে,জবটা পেলে ভালোই হয়..।কারণ কাল
তৃথির জন্মদিন,আর আমি ওকে জন্মদিনের সবচেয়ে সুন্দর
উপহারটা দিতে চাই।রাতে বসে বসে ভাবছি কাল ওকে
কিভাবে উইস করবো।এমন সময় তৃথির ফোন….
-হ্যালো।(আমি)
-হ্যালো,আমার বাবুটা কি করে?
-এইতো তোমাকে কিস সরি মিস করি।।।
-আবার ফাজলামি,,আর তুমি যে আমাকে কতটা মিস
করো তা আমার ভাল করেই জানা আছে।।
-হুম জানা থাকলেই ভাল।
-উফফ..তুমি একটা অসহ্য।
-ও,তাই।
তৃথির সাথে কথা বলতে বলতে ১২টা বেজে পার হয়ে
গেছে,আমি উইস করছি না বলে ওর কথার মধ্যে
অস্থিরতা ফুটে উঠছে।ও সবসময় চাইত যে আমি যেন ওকে
সবার প্রথমে উইস করি।কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই দেরিতে
উইস করব।কেননা সবুরের ফল মিঠা হয়…
-আচ্ছা জান রাখি,খুব ঘুম ধরছে।
-আর কিছু বলবা না?
-ও হ্যা,গুড নাইট।
-গুড নাইট।(উদাসীন ভাবে)
ফোনটা রেখেই ঘুমিয়ে গেলাম।সকালে আবার একটা
ফোনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।তবে এবার ফোনটা করেছে
তৃথির একটা বান্ধবি…
-হ্যালো!!
-হ্যালো,ভাইয়া ভালো আছেন?
-হুম,ভালো তুমি?
-হ্যা,ভাইয়া আপনি বিকালে একটু কফিসপে আসতে
পারবেন?
-কেন কোনো দরকার আছে?
-হ্যা ভাইয়া,আপনি আসলেই বুঝতে পারবেন।
-আচ্ছা ঠিক আছে।বাই
-বাই।।
বুঝলাম কিসের জন্য যেতে বলছে,কিন্তু আজকের দিনটা
আমি শুধু তৃথির সাথে কাটাতে চেয়েছিলাম।সকাল
থেকে ওকে ফোন দিচ্ছি কিন্তু মহারানির ফোন
বন্ধ,হয়ত খুব রাগ করছে। বিকালে ফিটফাট বাবু হয়ে
বাসা হতে বের হলাম,কেননা দশটা না পাঁচটা না একটাই
বউ(ভবিসতে হবে)।। যেতে যেতে আবার ফোন দিলাম
কিন্তু কোন লাভ হলো না,বন্ধ। কফিসপে গিয়েই থমকে
গেলাম।তৃথি আজ একটা নীল কালারের শাড়ি পড়েছে।
শাড়িতে ওকে অপূর্ব লাগছে,যেন একটা ডানাকাটা
পরী।কিন্তু ও মনটা খারাপ করে বসে আছে।
-কেমন আছেন ভাইয়া?
ওর ফেন্ডের কথায় মৌহ কাটল।
-হ্যা ভাল।
ওর পাশে গিয়ে বসতে বসতে বললাম..
-কি হইছে তোমার ফোন অফ কেনো?
-ইচ্ছে হইছে তাই অফ রাখছি।
-আচ্ছা আমার বাবুনিটার কি হইছে এত রাগ করছে কেন?
-হুহ, আমি রাগ করলেই বা কার কী?
আমি কিছু বলতে যাব,তার আগেই ওর বান্ধবী কেক নিয়ে
আসল। কেক কাটার পর সবাই অনেক মজা করল,কিন্তু
তৃথির মুখে শুধু আমার উপর জমে থাকা অভিমানটাই
দেখতে পেলাম।সবশেষে সবাই ওকে গিফট্ দিল,আর
আমি শুধু চেয়ে দেখলাম।এবার হয়ত আমার উপর রাগটা
আরও বেড়ে গেল।কফিসপ থেকে বের হতে হতে রাত ৮টা
বেজে গেল।সবাই যে যার মত বিদায় নিল,আমি ওকে
বললাম…
-চলো,তোমাকে আগায়ে দিয়ে আসি!
-লাগবে না।আমি রিক্সাতে চলে যাব।
-আরে তোমার বাসা তো সামনেই,এতটুকু রাস্তা
রিক্সাতে যাবা!চল হেটে যাই।
-আমি বলছি,আমি একাই যেতে পারব।(একটুরেগে)
-ও আচ্ছা,ঠিক আছে(মুখটা ছোট করে ঘুরিয়ে নিলাম)
-উফফ।আচ্ছা চল।
জানি এমন করলেই কাজ হবে,কেননা ও কখনো চায় না
যে আমি কষ্ট পাই।তো রাস্তা দিয়ে হাটতে হাটতে
বললাম…
-আচ্ছা তুমি আমার উপর অনেক রাগ করছ তাইনা?
-তা জেনে তুমি কি করবা?
-আচ্ছা তোমাকে বার্থডে কেন উইস করিনাই জানতে
চাইবে না?
-কেন?
-তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাই।আর তোমার জধ্য
একটা গিফট আনছিলাম,কিন্তু দেই নাই কেন জানো?
-কেন?
-কেননা গিফটটা পারসোনাল।
-কি তোমার সেই পারসোনাল গিফট্।
-একটা কিস।
-(চুপ)(লজ্জায়)
যাক তাহলে রাগটা একটু কমছে।আমি আবার বললাম..
-কী হল,গিফট্ নিবা না?
-আমার বাসার সামনে চলে আসছি,সো বাই।
কথাটা বলেই গেটের দিকে যেতে লাগল,আমি গিয়ে
পিছন থেকে ওর হাতটা ধরলাম।হাত ধরাতে ও একটু
অসস্তি বোধ করতে লাগল।আমি বললাম…
-তুমি চোখটা বন্ধ করে হাতটা এগিয়ে দাও।
-কেন?
-কিস করবো তাই,আরে যা বলছি তাই করো না।
ও চোখ বন্ধ করে হাতটা আগায়ে দিল।আমি পকেট থেকে
একটা খাম বের করে ওর হাতে দিলাম।খামটা হাতে
নিয়ে ও বলল
-এটা দিয়ে কী হবে?
-আরে এইটা তোমার বার্থডের উপহার,খুলেই দেখোনা।
অতঃপর ও খামটি খুলল।লটারী বেধে গেলে মানুষের
মুখের যা অবস্থা হয়,ওর মুখের অবস্থা ঠিক একই হল
খামটি খোলার পর।ও এতটাই খুশি হয়েছে যে,খুশিতে
আমাকে জরিয়ে ধরল।আমিতো পুরাই অবাক,এতো
মানুষের সামনে ও কী করে এই মেয়েটা?
-এই কী করো মানুষ দেখতেছে তো!
-আমার ইচ্ছা আমি যা খুশি করবো তাতে মানুষের কি।
-ও তাই,তাইলে কি তোমার পারসোনাল গিফটটা
মানুষের সামনেই দিব?
-উফফ…তুমি একটা ফাজিল।
-ঠিক আছে তাইলে চলে যাই। কথাটা বলে মুখ ঘুরানোর
আগেই ঠোটে কিছু একটা অনুভুত হল।ও দৌড়ে ওর বাড়ির
গেটে ঢুকে গেল।আর আমি মুগ্ধ হয়ে কিছু সময় সেখানেই
দাড়িয়ে থাকলাম।আসলে ও যে কাগজটা দেখে এত খুশি
হয়েছিল সেটিছিল আমার জব লেটার।
দুই বছর পর:
-হ্যালো জান।(আমি)
-হ্যা..আদা,পেয়াজ,রসুন এগুলা অফিস থেকে আসার সময়
নিয়ে আসবা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
এই হলো মেয়েদের একটা সমস্যা বিয়ের আগে বলে-
জান,বাবু,সোনা ইত্যাদি।আর বিয়ের পরে বলে-
আদা,পেয়াজ,রসুন,ইত্যাদি।
স্বপ্নরাজ্যের দদুষ্টু রাজকুমার

Leave a Reply

Topics

Blogroll