Search
You Have Notification
Home » Category » Life Story
অনীলার একদিন Posted by , 8 months ago, 18 Views
সকালের শুরু থেকেই আকাশটা আজ মুখ গোমড়া করে আছে, যেনো যেকোন সময় অঝোর ধারায় বারি বর্ষণে ব্যস্ত হবে.. অনীলার বেশ পছন্দ এমন দিন। সচরাচর সে বেশ তড়িঘরি করেই দিনের শুরু করলেও এমন দিনে মগসমেত চা হাতে বারান্দায় বেশক্ষাণিকটা সময় পার করে দিনের শুরু করে.. আজও অনীলার দিনের শুরুটা বারান্দাতেই হতো যদি না বাবার আদেশে তাকে নিলয়ের সাথে দেখা করতে যেতে হতো। খানিকটা রাগী রাগী মুখেই সকাল সকাল সে এসব ভাবতে ব্যস্ত। : মা, দেখো তো! বাবা কোন না ছেলের সাথে দেখা করতে যেতে বলছে! বলো মা.. আমি কি তোমাদের উপর বোঝা হয়ে যাচ্ছি? (অনেকটা অাহ্লাদের সুরে) : দেখ অনীলা, আহ্লাদ করবি না। তোর বাবা জেনেশুনেই নিলয়ের সাথে তোর দেখা করার দিন ঠিক করছেন.. তোর বাবার জেদেই তোকে নিলয়ের চেম্বারে দেখা করতে পাঠাতে রাজি হয়েছি না হলে আমি বাড়িতেই দু’পক্ষের দেখাশোনার ব্যবস্থা করতাম। তুই আর তোর স্বাধীনচেতা মনের বাবা.. জ্বালিয়ে খেলি! যা তো.. রেডি হয়ে বাবার সাথে বেড়িয়ে যা.. (অনীলার এসব কথায় কোন ভ্রুক্ষেপই নেই, সে মায়ের চিরচেনা কথাগুলোর অর্ধেক শুনেই নিজের ঘরে যেয়ে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে লেগে পড়েছে.. আর এদিকে তার মা আপনমনে কথা বলেই যাচ্ছে) : নীলার মা.. কার সাথে কথা বলছো? : ওহ.. আপনি এসে দাঁড়িয়েছেন?! তাই তো বলি এতো কিছু বলে যাচ্ছি অনীলা চুপ করে কিভাবে দাঁড়িয়ে থাকে! আমাকে কথা বলতে লাগায় দিয়ে আপনার রাজকুমারী ডুবেছে গানের জগতে! সব তো আপনার লায় পেয়ে.. লায় দিয়ে তো মাথায় তুলেছেন.. : আহা.. এতো কেনো বলছো? আমাদেরই তো মেয়ে.. এখনই তো ইচ্ছামত চলার সময়.. বাবার বাড়ি আছে চলুক না ইচ্ছামত.. স্বামীর বাড়ি গেলে কতোই না নিয়মে আঁটকে যাবে.. কে জানে? : অত বুঝি না.. কি দরকারে আপনার নিলয়ের সাথে অনীলার বাইরে দেখা করানোর ইচ্ছা হলো? বাড়িতে দেখা করে কি কখনো বিয়ে হয়নি বলেন? যুবতী মেয়ে.. হঠাৎ কোন বিপদে পড়লে! : হাহাহাহা.. নীলার মা.. তোমার টেনশানের অভ্যাসটা আর গেলো না.. আহা.. এ যুগের ছেলে মেয়ে এরা.. চাইলেই নিজের পছন্দের ছেলে সামনে এনে বলতে পারতো “বাবা.. এই ছেলেকে আমি পছন্দ করি.. এর সাথেই বিয়ে করতে চাই” কি? পারতো না? পারতো.. কিন্তু নীলা এমন না.. নিলয়েরও খোঁজ খবর নিয়েছি.. ভালো ছেলে, ডাক্তার, মাত্র চেম্বার দিয়েছে.. আর হ্যাঁ.. ছেলে নিজেও আমাদের নীলার মত গোবেচারা.. জীবনে প্রেম কি বোঝে নি.. বই-ই পড়ে গেছে.. হাহাহাহা.. : রাখেন তো আপনার গোবেচারা। ছেলে পছন্দ করেছেন তাও আবার যেনো তেনো ডাক্তার না.. পাগলের ডাক্তার! জেনে শুনে মেয়েকে পাগলের ডাক্তারের কাছে যেতে দিচ্ছেন তাও আবার দেখা করার জন্য! কি সাংঘাতিক কথা! : শোনো নীলার মা.. দেখা করাতে অসুবিধা কি বলো? তোমার ভয় তো একটাই যদি কোন বিপদ হয়.. আমি বলছি কিছু হবে না.. আমার কথায় তো ভরসা রেখেছো এত বছর.. আজও রাখো.. আর এই দেখা করাতে বরং আমি সুবিধাই দেখতে পাচ্ছি.. এখন থেকেই কথাবার্তা থাকলে পরবর্তীতে যেয়ে তুমি সম্বোধন করতে আর সংকোচ বোধ করবে না তোমার মেয়ে, হাজার হলেও তোমারই মেয়ে.. যে তুমি আমাদের বিয়ের এতবছরেও আমাকে আপনি ছেড়ে তুমি সম্বোধনে গেলে না সেই তোমারই মেয়ে হুট করে কাউকে তুমি কিভাবে বলে বলো? তাই নিলয়ের সাথে দেখা করানোর প্ল্যান করলাম.. যেনো বেচারাকে বাকী জীবন নীলা থেকে আপনি সম্বোধন শুনতে না হয়.. হাহাহাহা.. : মেয়ে বসছে গান শুনতে আর বাবা বসছে রসিকতা নিয়ে। কি বাবা মেয়ের জুটি.. (হাসি চেপে) . . : নীলা মা, আয় নাস্তা করবি.. বাবার ডাকে অনীলার গানের ঘোর কাটে.. (ঘড়িতে ৮:৩০ বাজে। অার দেরী হলেই মায়ের বকা খেতে হবে) : আসছি বাবা। অনীলার উত্তরে জামান সাহেব পেপারটা ড্রয়িংরুমে রেখে চলে আসলেন ডাইনিং এ.. : নীলা শোন.. : বলো বাবা.. : নিলয় যদি তোকে অনীলা বলে ডাকে তবে সাথে সাথে উঠে চলে আসবি, তোকে নীলা নামেই বেশি মানায়.. : বাবা.. তুমি কিভাবে বুঝলে আমার প্ল্যানটা! তুমি ছাড়া তো সবাই আমাকে অনীলা বলে ডাকে, তাই তো এটা বলে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলাম! : দেখ অনীলা, তোর বাবার এসব কথায় একদম কান দিবি না.. : রাখো তো মা.. তোমাদের ঐ নিলয় আমাকে অনীলা বলেই ডাকবে আর আমিও বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে চলে আসবো। বাবা তোমার আমার কত মিল! ঠিক বলেছো একদম.. : এইতো! এইবার জেনারেল জামানের মেয়ের মত কথা বলেছিস। যা রেডি হয়ে নে, তোকে নামিয়ে আমার একটু কাজ আছে.. : আচ্ছা.. . . (রেডি হবো বলে কেবল দরজা লাগিয়েছি.. আর দরজায় কড়া) : অনীলা, দরজা খোল.. এই শাড়িটা নে.. : কোন শাড়ি মা? : এইতো তোর পছন্দের নীল শাড়ি.. : কি! নীল শাড়ি! আজ পর্যন্ত এতোবার চাইলাম কোনদিন দিলে না, যেই না আজ ঐ নিলয়ের সাথে দেখা করা লাগবে ওমনি নীল শাড়ি হাতে হাজির! : এতো ঢং করবি না তো, নিতে বলছি নে.. : দাও, যাই হোক আমার নীল শাড়ি তো পড়া হচ্ছে। আহা.. আজকের দিনটা বেশিই ভালো.. : তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে, তোর বাবা কিন্তু রেডি। মা’র এই এক সমস্যা, যখনি রেডি হতে বলবে তখনই তাড়াতাড়ি। . . : বাবা, বলো তো কেমন দেখাচ্ছে আমাকে? : নীলার মা, কোথায় গেলে? দেখে যাও আমাদের রাজকুমারীকে কি সুন্দরী-ই না দেখাচ্ছে! : অনীলা এদিকে আয় দেখি.. (বলেই আফরোজা বেগম অনীলার মুখে সূরা পড়ে দিলেন) : নীলা চল, আজ বাবা মেয়ে ঘুরতে যাবো.. : এই যে শোনেন, সাবধানে যেয়েন.. : তুমি একটু মাথা ঠান্ডা করে বসো তো নীলার মা, আমরা আসছি.. . . (ড্রাইভ করার সময় জামান সাহেব অনীলাকে কিছু কথা বললেন) : বুঝলি নীলা.. তোর মা কে যেদিন দেখতে গেলো বাড়ির বড়রা সবাই, সেদিন আমি যাই নি। আমাদের সময় ছেলে মেয়ের দেখা হতো না বিয়ের আগে.. তাই বলছি, যাচ্ছিস-ই যেহেতু একবার ঠিকমত কথা বলে বুঝে আসিস, একদিন না একদিন তো বিয়ে করে চলে যাবি-ই.. কোন সংকোচ রাখবি না মনে, ভালো মত কথা বলবি, কিরে ঠিক আছে তো? : হ্যাঁ বাবা.. . . (নিলয়ের চেম্বারের সামনে অনীলাকে নামিয়ে দিয়ে গেছেন জামান সাহেব, এখান থেকে একা চলতে হবে ওকে) ভেতরে গিয়ে রিসেপশনে নিজের পরিচয় দিতেই সবার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেলো আর অনীলাকে নিলয়ের স্টাডিরুমের পথ দেখিয়ে বসতে বললো। স্টাডিরুম নাম শুনে অনীলা যেমনটা ভেবেছিলো এই রুম তার পুরোই উল্টো! সে ভেবেছিলো বইয়ে পরিপূর্ণ থাকবে রুম, কিন্তু একি! এ তো দেখি একটা বাগানরুপী রুম! যেখানে বইয়ের সংখ্যা সামান্য এবং নির্দিষ্ট একজায়গায়। আর পুরো রুম জুড়ে বিভিন্ন ফুল, ফুলের টব। ইয়া বড় জানালা দিয়ে ঢাকা শহরের মত জায়গায় আকাশ দেখা যাচ্ছে বিনা বাধায়! আবার ছাদের মত সামান্য অংশও আছে, ইচ্ছে হলেই সেখানে গিয়ে প্রাণভরে শ্বাস নেয়া যাবে.. এসব পর্যবেক্ষণ করতে করতেই জানালার পাশের সোফায় বসলো অনীলা। কিছুক্ষণ পরেই দু’হাতে দু’মগ চা নিয়ে রুমে নিলয়ের প্রবেশ.. তখনো অনীলা সোফার পাশে রাখা বেলীর টব দেখছে। : বেলী কি পছন্দের ফুল আপনার? (হঠাৎ কারো কণ্ঠে খানিকটা হকচকিয়ে ওঠে অনীলা) : চমকাবেন না, আমি নিলয়.. আপনি নিশ্চয় নীলা? মানে অনীলা? : জ্বি আমি অনীলা : আপনাকে নীলা বলেই ডাকি কেমন? চা নিন (উত্তরে অনীলা শুধু চা নিলো) . . (বেশখানিক ক্ষণ নিরব থেকে অনীলার প্রশ্ন) : আচ্ছা.. আমাকে নীলা বলেই কেনো ডাকতে হবে আপনার? : আসলে আপনাকে নীলা নামেই মানায় বেশি.. আর নীলার সাথে অ একটু কেমন জানি..তাই নীলা (অনীলার মনে হতে লাগলো সে তার বাবার বলা কথা গুলোই আবার শুনছে অন্যকারো মুখে) : কি হলো? উত্তর বুঝি পছন্দ হলো না? নিলয়ের ডাকে অনীলা বললো.. : যুক্তিটা একদম বাবার মত করে দিলেন, ভালো লাগলো.. : চা কেমন হয়েছে বললেন না তো? : ভালো হয়েছে.. আপনি বানিয়েছেন? : বাহ! আপনি তো ভালো আন্দাজ করতে পারেন! হ্যাঁ, চা আমিই বানিয়েছি.. (আবারো কিছুক্ষণ নিরবতা.. তবে এবার নিরবতা ভাঙ্গলো নিলয়) : একটা কথা বলা যাবে? : বলুন : আপনাকে নীল শাড়ি আর কালো কাজলে বেশ মানিয়েছে.. উত্তরে অনীলা সামান্য হাসলো.. : আচ্ছা নীল রং আপনার অনেক পছন্দের না? : হ্যাঁ, অনেক পছন্দের.. : আপনি চা পছন্দ করেন তাই না? : হ্যাঁ, পছন্দ করি.. বাবার মত.. : আপনি বৃষ্টিও খুব পছন্দ করেন তাই না? : কি ব্যাপার! আপনি এতো কিছু কিভাবে জানেন! (আশ্চর্য হয়ে) : আসলে যার সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে তার সম্পর্কে একটু তো জেনে রাখা উচিত-ই.. কি বলেন? (মুচকি হেসে) : বাব্বাহ! আপনি বেশ স্মার্ট দেখছি.. : এইতো বুঝেছেন.. (দু’জনেরই একত্রে হাসি) : আপনার কি কোনোই প্রশ্ন নেই? নিলয়ের এমন প্রশ্নে অনীলা খানিক ভাবলো.. তারপর.. : আমাকে কেনো বিয়ে করতে চান? : যাহ বাবা! প্রশ্ন করতে বললাম তাই বলে এতো কঠিন প্রশ্ন করে ফেলবেন? : উত্তর দিন.. : আপনার এই হাসি-ই আপনাকে বিয়ে করতে চাওয়ার কারণ.. মনে আছে? কিছুদিন আগে আপনার কোন এক বান্ধবীর বিয়েতে গিয়েছিলেন? সেখানেই প্রথম দেখি আপনাকে.. তারপর আফনান মানে আপনার বান্ধবীর বরকে দিয়ে আপনার খোঁজ পাই, আর বাবা মা কে দিয়ে প্রপোজাল পাঠাই.. এরপরের কাহিনি তো আপনার জানা। : আপনি তো দেখি ডাক্তার মানুষ হয়ে গোয়েন্দার কাজ করেছেন! : কারণ একটাই, আমি যখন সারাদিন মানুষের সুখ দুঃখের কাহিনি শুনে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরবো তখন আপনার এই স্নিগ্ধ হাসিটা দেখতে পাওয়া.. এক্ষেত্রে আমাকে স্বার্থপর বলতে পারেন আপনি। : আর কোন বিষয়ে স্বার্থপর হবেন না তো? : বিশ্বাস করতে পারেন.. ( নীলার কেনজানি একটু বেশিই ভালো লাগছে এখন, নিলয়ের ছবি দেখেও এমনটা লাগে নি তার যতটা তার কথা শুনে লাগছে। বাবা, মা কে ঠিকই বলেছিলো “বিশ্বাস রাখতে পারো.. ছেলে ভালো”) : আজ তাহলে উঠি, বাবার আসার সময় হয়ে গেছে.. : একটা কথা রাখবেন? : বলুন : সামনের ছাদে একটু দাঁড়ান, আমি আসছি.. : কেনো? : আসছি.. . . (হঠাৎ খোঁপায় কোন কিছুর অস্তিত্ব টের পেলো অনীলা, মাথায় হাত দিয়ে) : এ কি! বেলি ফুলের মালা! কোথায় পেলেন? : আপনার জন্য এনেছিলাম.. আফনানের বিয়ের দিন দেখেছিলাম আপনার খোঁপায়.. সাহস করে আজ তাই খোঁপায় গুজে দিলাম.. (অনীলা কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে) নিলয় আর অনীলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে গুমড়ো মুখো আকাশকে দেখছিলো.. তখনই নিলয় আবার বললো, : আরো একটা কথা রাখবেন? : বলুন শুনি.. : এরপরে দেখা করতে এলে নীল শাড়ির সাথে মিলিয়ে একটা টিপ পড়তে পারবেন? (কথাটা শুনে অনীলা একটু ভেবে ব্যাগ থেকে টিপের পাতা বের করে বললো) : দেখেন তো এখানে কি নীল টিপ আছে? : হ্যাঁ, এই তো আছে.. : তাহলে নিজ হাতে পড়িয়ে দিন.. : সত্যি বলছেন! : বিশ্বাস রাখতে পারেন.. . . নীল টিপে অনীলাকে দেখতে নিলয়ের বেশ লাগছিলো.. কিছু একটা বলতে যাবে তখনই অনীলার ফোন বেজে উঠলো.. বাবা ফোন দিয়েছে! : চলে এসেছি নীলা, তোদের কথা কি শেষ? : হ্যাঁ বাবা আসছি অনীলাকে বিদায় দিয়ে ফোনে কিছু লিখতে লিখতে উপরে উঠে এলো নিলয়। আর গাড়িতে উঠতেই অনীলার ফোনে নিলয়ের ম্যাসেজ, “বৃষ্টি হতে পারে.. আজ না হয় একা ভিজলেন.. তবে এমনই বৃষ্টির কোন একদিনে আপনাকে সাথে নিয়ে ভিজবো, খুব শীঘ্রই আসছে ১৮ মে..” .
Related Post
  1. › hi
  2. › বাসায় যখন বিয়ের কথা চলে
  3. › আজ মেয়ে দেখতে আসবার পর মেয়েকে আর আমাকে যখন আলাদা করে ছাদে পাঠানো হলো কথা বলার জন্য
  4. › টক মিষ্টি ঝাল ঝাল ভালোবাসার গল্প
  5. › বাসার ছাদ থেকে ঢাকা শহর টা বেশ সুন্দরই লাগছে

Leave a Reply

Topics

Blogroll