Search
You Have Notification
Home » Category » Life Story
বাসার ছাদ থেকে ঢাকা শহর টা বেশ সুন্দরই লাগছে Posted by , 7 months ago, 19 Views
মাস খানেক হলো আবিদ নতুন বাসাতে উঠেছে। মহল টা খুবই নিরব, তার বাবা একজন সরকারী কর্মকর্তা, মা গৃহিনী। আবিদ এবং তার ছোট বোন এই পরিবারের সবচাইতে আদরের। ৪ জনের পরিবার নিয়ে আবিদের দিন কাল খুবই ভালো কাটলেও মনের মাঝে এক যন্ত্রনা থেকেই যায়। যন্ত্রনটা হচ্ছে আবিদ মাস্টার্স কমপ্লিট করে বেকারত্ব জীবন কাটাচ্ছে। বেকারত্ব জীবন বড় বেশীই অভিশপ্তময় হয়। এখন আবিদ অনেক বড় হয়েছে, তাই বাবা-মার কাছে পকেট মানি খুজতে বেশ লজ্জাবোদ হয়। যখন তার কাছে কোন টাকা থাকে না, তখন তার একমাত্র টাকা সন্ধানের রাস্তা তার বোন তিতলি। আবিদ তিতলির সামনে গিয়ে একবার এখানে একবার ওখানে হাটা হাটি শুরু করবে। তখন তিতলির আর বুঝতে বাকি থাকে না, সে টাকার জন্য ঘুর ঘুর করছে। তখন তিতলি তার জমানো টাকাগুলো আবিদের হাতে ধরিয়ে দেয়, আর একটা কটু কথাও শুনিয়ে যায়, বিয়ে করে বউয়ের কাছেই টাকা খুজলেই পারো। এটা তিতলির প্রতিদিনের একটা বোকা বলাও যেতে পারে। টাকা হাতে পাওয়ার পর তিতলির মাথায় একটা থাপ্পর মেরে বলবে, তোকে বিয়ে দেওয়ার সময় যৌতুকের সাথে সমস্ত টাকা হিসেব করে দিয়ে দিবো। এভাবেই দুষ্টামি আর কটু কথায় মেতে থাকে দুই ভাইবোন। দুজনের ঝগরা দেখে তাদের মা- বাবাও অনেক খুশি হন। এরই নাম তো পরিবারের ভালোবাসা। মুখে নয়, ভঙ্গি আর চোখ দেখেই বলে দিতে পারে, ভাইয়ের কি প্রয়োজন, বোনের কি প্রয়োজন, মা-বাবার কি প্রয়োজন, এমন সুখ এই পৃথিবীর কোন ধরাতে নাই কোন জায়গায় নেই এমন ভালোবাসা। . আবিদ নতুন বাসার ছাদে গিয়ে পানির ট্যাংকির উপর বসে রইলো। বাসার ছাদ থেকে ঢাকা শহর টা বেশ সুন্দরই লাগছে। বড় বড় বাড়ী আর যানবাহনে ভরা ঢাকা শহর। মানুষের এদিক ওদিক ছোটাছোটি। কারো হাতে অবসর সময় নেই, সবাই যার যার জীবিকা নির্বাহ নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত। এমনও ব্যস্ত শহরে আবিদের কাছে কোন কাজ নেই। খুবই অসহ্য লাগছে এই বেকারত্ব জীবন টা, কতদিন আর এভাবে ছোটবোন মায়ের থেকে টাকা নিয়ে চলবে। নিজের কাছেই তো খারাপ লাগে, বড় তো আর কম হলাম না, এখনও যদি কোন কিছু না করতে পারি, তাহলে এই কুলাঙ্গার জীবন নিয়েই বা কি করবো। না কিছু একটা তো করতেই হবে। এখনই বাবার সাথে গিয়ে কথা বলব। এই কথা ভেবেই আবিদ ঘরে ঢুকলো বাবা সোফায় বসে টিভি দেখিছিলেন, আবিদ মৃদু কন্ঠে বাবাকে বলতে লাগলো== ০- বাবা তোমাকে একটি কথা বলার ছিলো, == হ্যা বল বাবা। ০- আমি তো মাস্টার্স কমপ্লিট করে ফেললাম। কোন কাজকর্ম নেই, সারাদিন এভাবে ঘরে বসে থাকতে খুব বিরক্ত লাগছে। আমাকে একটি চাকুরী বা ব্যবসা ধরিয়ে দেও না। == দেখ বাবা তোকে ব্যবসা ধরিয়ে দেওয়ার মত টাকা আমার কাছে নেই, তাছারা তোর বোনও বড় হয়ে যাচ্ছে ওর জন্যও তো কিছু ভাবতে হবে তাই না। আর যেখানে চাকুরীর কথা বলতেছিস, সরকারী চাকুরীর সার্কুলার বের হলেই তোর একটা ব্যবস্থা করে ফেলবো। তুই আরো কয়েক মাস একটু বিশ্রাম নে, আর যদি ভালো না লাগে বন্ধুদের নিয়ে কোথা থেকে ঘুরে আস। ০- না বাবা এখন আর ঘোরা ঘোরি করতে ইচ্ছে হয় না। তোমাদের টাকা তো আর কম নষ্ট করলাম না। এবার একটু নিজের পায়ে দাড়াতে চাই। == বাহ আমার ছেলেতো বুঝমান হয়ে গেছে। যাক বাবা তুই চিন্তা করিস না। আমি তোর জন্য একটি ব্যবস্থা করেই ফেলবো। যা ঐ ঘরে গিয়ে টিভি দেখ। ০- ঠিক আছে, বাবা . এই কথা বলে আবিদ ঘরে ঢুকলো কিছুতেই তার মন বসছে না ঘরের ভিতর তাই সে আবারও ছাদে গেলো। ছাদে গিয়ে একটি সিগারেট ধরিয়েছে সবে মাত্র, এরেই মধ্যে তিতলি এসে বলতে লাগলো – ০- ভাইয়া তুই সিগারেট খাইস, আল্লাহরে!! == ঐ চুপ চুপ ধিরে বল বাবা শুনতে পায় যদি। ০- বাবা কি শুনবে রে, আমি এখনই বাবাকে গিয়ে সব বলব। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তুই সিগারেট কিনিস। কি সিগারেট খাসরে, ওরে আল্লাহরে!! তুই বেনসন সুইচ খাস, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। == আমার লক্ষী বোন, তোর কাছ থেকে আর টাকা নিবো না, ভাইয়া চাকুরী করার পর প্রথম মাসের বেতন দিয়ে তোকে মার্কেট করে দিবো প্লিজ বাবাকে বলিস না। ০- তুই প্রমিস কর, মার্কেট করে দিবি? == হ্যা দিবো। ০- ঠিক আছে তাইলে তোরে এবার মাফ করে দিলাম। == আল্লাহ বাচাইছে, ০- ঐ ঐ নাফরমান, আমার উছিলায় তুই বেচে গেছোস, তোর উপর মায়া করে ছেড়ে দিলাম। আমার শুকরিয়া আদায় কর == আচ্ছা করলাম, এবার এখান থেকে যাও আমার লক্ষী বোন আর অনেক ধন্যবাদ তোমায়। (মনে মনে ডাইনির হাত থেকে কবে যে রেহাই পামু) . আবিদর সিগারেটে টান দিচ্ছে আর ভাবছে এরকম বেকার জীবন আর কতদিন সইবো। এরই মধ্যে অপর বিল্ডিং এর ছাদে একটি মেয়ে আসলো, শ্যাম বর্ণ মেয়েটি বড়ই মায়াবী মুখ, চোখদুটো হরিনি, চুলগুলো কোমর অবদি, গালের উপর ছোট্ট একটি তিল অসাধারন লাগছে তাকে। মুচকি হাসি তার ঠোটে যেন পৃথিবীতে ভালোবাসার আহবান দিচ্ছে। উত্তর মেরু থেকে যখন দমকা হাওয়া আসছে, তখনই তার চুল গুলো, উড়ন্ত মেঘের ন্যায় ভেসে যাচ্ছে এক মেরু থেকে অন্য মেরুতে। সুন্দর সুঠামো দেহ তার, যেন মনের মাঝে ভালোবাসার আমেষ সৃষ্টি করে। প্রফুল্ল হাসি নিয়ে তার কোলের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। একবার মেয়েটি শিশুকে চুমু দেয়, আরেকবার শিশুটি তাকে চুমু দিচ্ছে। পৃথিবীর এক শ্রেষ্ঠ সুখ আবিদ দুর থেকে খুব ভালোভাবেই উপলদ্ধি করতে পারছিলো। মেয়েটি উল্টো ঘুরে গেলে আবিদ তার মায়াবী মুখটি দেখতে পারছে না তাই আবিদ তাকে দেখার জন্য, আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলো। আবিদের হাতে যে সিগারেট রয়েছিলো সেটা সে ভুলেই গিয়েছে। যার কারনে সিগারেটের আগুন শেষ প্রান্তে এসে তার আঙ্গুল স্পর্শ করেছে আর সে ততক্ষনাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলো। আর এমন সময় মেয়েটি তার দিকে ঘুরে তাকালো আর বলতে লাগলো == ০- এই যে মিষ্টার কি হয়েছে আপনার, বাচ্চাদের মত চিৎকার কেন দিচ্ছেন। আবিদ কিছু বলছে না তাই একটু বিরক্তিভাব নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে উত্তর দিচ্ছেন না কেন, আপনি কি বোবা? == না আসলে আগুন লেগেছে হাতে। ০- হাতে আগুন কোথা থেকে লাগলো, এখানে তো কোথাও আগুন নেই। == আসলে আমি সিগারেট খাচ্ছিলাম, সেটার আগুন। ০- কি!! আপনি এই প্রাকৃতিক বাতাসে বিষ উড়াচ্ছিলেন, সবাইকে মেরে ফেলার জন্য। == আমি কোথায় বিষ উড়ালাম? আমি তো সিগারেট খাচ্ছিলাম। ০- আমাকে কি আপনি বোকা পেয়েছেন? আপনি জানেন না সিগারেটের কারনে কত মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম কারন হচ্ছে এই সিগারেট। == হ্যা তা ঠিক আছে, কিন্তু আমি সিগারেট খেলে আমার ক্যান্সার হবে আমি মরবো, আমি কিভাবে সবাইকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করলাম। ০- ওলে বাবালে, কুচি খুকা, কিচ্ছু বুঝে না, আপনি সিগারেটের ধোয়া ছাড়তেছেন আর সেই ধোয়া বাতাসে মিশতেছে আমি সেই বাতাস অক্সিজেন হিসেবে গ্রহন করতেছি, সেই বাতাসের সাথে রয়েছে সিগারেটের নিকোটিন, সেই নিকোটিন আমিও নিচ্ছি, আপনি মরবেন মরেন আরেকজন কে কেন মারতে চান। == সবাইতো খায়, আপনি শুধু আমাকে বোকা দিচ্ছেন কেন? ০- কারন এখন আপনি আমার সামনে খাচ্ছেন। সিগারেট খাবেন কবরের ভিতর ঢুকে খান, যেন সেখান থেকে ধোয়া বাহিরে না আসতে পারে। == ওরে বাবা, এতো দেখছি বড্ড পাগল মেয়ে, কবরে ঢুকে সিগারেট কিভাবে খায়। ০- কি আমি পাগল, যেভাবে মানুষ মরলে ভুত হয়ে পৃথিবীতে ঘোরাঘোরি করে, সেভাবে ঘুরবেন আর খাবেন। আমিও দেখবো না, আর বোকা দিবো না। == আমি ভুত হয়ে গেলে সবার আগে আপনার ঘাড় মটকাবো মনে রাখবেন। ০- উহু পারবেন না, আমার কাছে বশিকরণ তাবিজ আছে। এই কথা বলেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উচ্চ হাসিতে হাসতে হাসতে মেয়েটি চলে গেলো। আবিদ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটির চলে যাওয়া, কি নিশ্পাপ মুখ মেয়েটির, আর কি চটপটে কথা বলে, যে কারো হৃদয়ে কেড়ে নিবে, এক ঝলকেই। এই প্রথম আবিদের কোন মেয়ের কথা এবং তাকে ভালো লাগলো। ভার্সিটিতে কত মেয়ে দেখেছে এর মত কাউকে দেখতে পায় নি। উফ মেয়েটির নামটাও জানা হলো না, কি করে? কোথায় পড়ে? নাকি বিয়ে হয়েছে কিছুই জানা হলো না। এক সিগারেটের টোপিক নিয়ে দিন কাটিয়ে ফেললো। তারপরেও শান্তি রয়েছে, মেয়েটির কথাগুলো আসলেই খুব সুন্দর ছিলো। এসব ভাবতে ভাবতে আবিদ ঘরে ফিরে গেলো। রাতের খাবার খেয়ে নিজ রুমে গিয়ে বসে রইলো, আর মেয়েটির কথা ভাবতে লাগলো। তার মুখ হৃদয়ের ক্যানভাসে তৈরি হয়ে গেলো নিমিষেই। যাইহোক মেয়েটি যখন ওপর বিল্ডিংয়ের বাসার ছাদে এসেছে হয়ত সেখানেই থাকে, কাল দেখা হলেই সবকিছু জেনে নেওয়া যাবে। এসব ভাবতে ভাবতেই অর্ধরাত পার করে আবিদ ঘুমিয়ে পড়লো। . ০- ভাইয়া তুই বারে বার ছাদে কি করতে যাস? তোর কাহিনি কিন্তু ভালো মনে হচ্ছে না। == কিছু না এমনিতেই যাই। ০- আমি জানি তুই পাশের বাড়ির মাইয়ারে দেখতে যাস, কাল তুই ওর সাথে কথা বলছোস আমি দেখছি। == ঐ তুই ডাইনিগো মত সব বিষয়ে এত নাক গলাস কেন? ০- কি বললি আমি ডাইনি? আজ বাবা আসুক তোর খবর আছে!! == কি বলবি তুই আঙ্কেল কে? ০- কি বললি, বাবাকে তুই আঙ্কেল বলছিস? == তো কি বলবো তোর মত ডাইনি আমার বোন হতে পারে না। আঙ্কেল তোকে মাসে কত টাকা বেতন দেয়, তার চামচামি করার জন্য? নিশ্চয় আমার নামে কোন ষড়যন্ত্র রচাইতেছোস তুই!! ০- কি বললি আজ তোর একদিন কি আমার যে কয়দিন লাগে। মা, ও মা !! ০০- কি হইছে চিৎকার করোছ কেন? ০- তোমার ছেলে বাবাকে আঙ্কেল বলছে? ০০- কেন রে বাবা? == তোমার মেয়ে যত্তসব উল্টা পাল্টা কথা বলে, আমি নাকি কোন মেয়ের সাথে লাইন মারতে যাই ছাদে!! ০০- কিরে তিতলি কি বলিস এসব? ০- হ্যা মা সত্যইতো ঔ যে পাশের বাড়ীর অর্পা আপুনি আছে, তার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করতেছে। == মা এটা মিথ্যে কথা। আচ্ছা সত্যি করে বলতো এই কুটনি বুড়ি কি সত্যিই আমার বোন?? ০০- আবিদ কি সব বলতেছিস এগুলো। যা ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নে, তিতলি তুইও যা, আজ তোর বাবা আসুক। তারপর সব বিচার করবো। . এই কথা বলেই যে যার ঘরে চলে গেলো। আবিদ বিছানায় হেলান দিয়ে, মেয়েটির কথা ভাবছে। আসলে তিতলি যেমনই হোক আমার কিন্তু খুবই উপকারী বোন। তাইতো আজ মেয়েটির নামটাও বলে দিলো। বাহ কি সুন্দর নাম, অর্পা, যেন পাহাড়ের চুড়া থেকে ঝর্নার ন্যায় ভালোবাসা ঝড়ে পড়ছে। এমন একটি মেয়েই তো আমি সর্বদা খুজতেছিলাম। কিন্তু এই মেয়ের সাথে কথা বলতে হলে তিতলি কে হাত করতে হবে। তা না হলে কোন রাস্তা নেই এর সাথে কথা বলার। কিন্তু তিতলি যদি বাবাকে বলে দেয়, নাহ বলবে না, শত হলেও তো আমার বোন। ভাইয়ের কষ্ট একটু হলেও তো বুঝবে। . এসব ভাবতেই আবিদ ছাদে চলে গেলো, সেখানে তিতলি তার আগেই উপস্থিত হয়ে অর্পার সাথে কথা বলতে লাগলো। তা দেখে আবিদ একটু সামনে এগিয়ে গেলে তিতলি তাকে চোখ গরম দেখায়। তাই সেখান থেকে শুভ্র বালকের মত প্রস্থান করতে চাইলে, এরই মধ্যে অর্পা ডাক দিয়ে বসে == == এই যে পরিবেশের দুশমন! মানুষ হত্যাকারীর মেশিন ০- জ্বি আপনি কি আমাকে বলতেছেন? == জ্বি আপনাকেই বলতেছি, এখানে আপনি ছাড়া আর কে পরিবেশের দুশমন হবে, কিভাবে যে সিগারেট খায় আল্লাহই জানে। ০- দেখুন একদিন কি সিগারেট খেয়েছি তাই বলে পরিবেশের দুশমন, তার উপর আবার মানুষ হত্যাকারী মেশিন ও হয়ে গেলাম, না জানি কাউকে হত্যা করলে কি উপাধি দিতেন। এরই মধ্যে তিতলি বলে উঠলো – == হইছে হইছে ঝগড়া থামাও। আসলে অর্পা আপু আমার ভাইয়া খুবই ভালো জানেন। কখনও কোন মেয়ের সাথে কথাও বলেনি। এমন ছেলে সহজে মেলে না। আর সিগারেট খেয়েছে, খুব টেনশনে আছে তাই হয়ত। মাস্টার্স শেষ করেছে, এখনও কোন চাকুরী পাচ্ছে না। তাই চিন্তায় ঘুমাতেও পারে না। বিশ্বাস করুন আপু ভাই বলে বলছি না, সত্যিই আবিদ ভাইয়া খুবই ভালো। . আবিদ তিতলির কথা শুনে চোখের কোনে পানির ঝলক উপলদ্ধি করতে পারলো। আসলে একেই বলে বোনের ভালোবাসা। তা না হলে মনের কথাগুলো কত সহজে গড়গড় করে বলে ফেলল। মুচকি একটা হাসি দিয়ে দুজনকেই বায় জানিয়ে আবিদ সেখান থেকে প্রস্থান করলো। আবিদের একটি পছন্দের জায়গা আছে উত্তরার পাশ ঘিরে, একটি পানির জোয়ালা রয়েছে। জায়গাটা ছোট হলেও খুবই সুন্দর, যে কারো মনের কষ্টকে ভুলিয়ে দেওয়ার মত একটি জায়গা, এখান থেকে খুব সহজেই উপভোগ করা যায়, সুর্য্য আর আকাশের মিলন কে। দেখা যায়, রাতের চন্দ্র আর তারাদের বহির্গমন। সেখানে বসেই হাতে একটি সিগারেট নিয়ে ভাবছে সিগারেট টা কি সে খাবে নাকি ফেলে দিবে। . যেই মেয়েটিকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছি, সে সিগারেট সহ্যই করতে পারে না। আর আমি তো সিগারেট সখে খাই না, চিন্তায় যে রাতে ঘুমাতে পারিনা। কিভাবে চলবে আমার জীবন, সামনে, বয়সের দিকে তাকালেও কান্না আসে ৩০ এর কাছাকাছি চলে এসেছি এখনও বাবার হোটেলে খাই, আর মায়ের হোটেলে ঘুমাই। এভাবে তো আর জীবন চালানো যায় না। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সিগারেট টা মুখে দিলো। এরই মধ্যে একটি পথ শিশু এসে বলতে লাগলো – ০- ভাইয়া ৫ টাকা দিবেন আমার খুব খিদা পাইছে। একটা রুটি খামু। আবিদের খুব মায়া হলো ছেলেটিকে দেখে। সত্যিই ছেলেটি অনেক্ষন ধরে হয়ত কিছুই খায় না। মুখটা খুবই মলিন হয়ে গেছে। আবিদ তার পকেট হাতরিয়ে ২৫ টাকা পেলো, সেখান থেকে ১০ টাকা ছেলেদির হাতে ধরিয়ে দিলো। আর সিগারেট টা জালিয়ে হাটতে লাগলো। সেই স্থানের চারিপাশ ঘিরে রয়েছে, কফি শপ, চটপটি, ফুচকার দোকান, রয়েছে আইসক্রিম ওয়ালা। সেখান দিয়েই হেটে আসতেই আরেকটা পিচ্চি ডাক দিয়ে বলল== ০- মামা এদিকে আসেন খুবই ভালা চটপটি আর ফুচকা আছে। সাথে আলাদা বসার ব্যবস্থাও আছে। আবিদ এরকম ডাক আরো অনেক বার শুনেছো, কখনও জানার ইচ্ছে করে নাই আলাদা বসার ব্যবস্থা বলতে কি বোঝায়? যাই আজকে পিচ্চিকে ধরি। এই বলে আবিদ পিচ্চির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলো== == আচ্ছা আলাদা বসার ব্যবস্থা আছে এটা কি? ০- ধুর ভাই আপনে আমার লগে মজা নেন!! == আরে তুই কি আমার বন্ধু না বেয়াই তোর সাথে মজা নিবো, আমি জানি না তাইতো জিজ্ঞেস করলাম। ০- প্রেমিক প্রেমিকারা সবার থেকে আলাদা বসে গল্প করবে, একজন আরেকজনকে খাইয়ে দিবে, পারলো দুই একটা চুমাও দিবো, এই জন্যই আলাদা বসার ব্যবস্থা করছি। == ও বুঝলাম, তোর প্রেমিকা নাই? ০- আছে একটা খালি ঝগড়া করে। কিন্তু ভাইজান আমারে কিন্তু মাইয়া অনেক ভালোবাসে এইডা সত্যি। একদিন রাগ কইরা কথা না কইলে হায়রে কান্না, আপনারে আর কি কমু। == বাহ তোরও প্রেমিকা আছে? ০- হো ভাই, ক্যান ভাই আপনার নাই? == আমার থাকলে কি তোরে আর জিগাইতাম আলাদা বসার ব্যবস্থা কি? তাইলে তো আমি নিজেই তোর কাছে আলাদা জায়গা খুজতাম। যাইহোক প্রেমিকা হলে আমি চটপটি খেতে তোর দোকানেই আসবো। ০- আইচ্ছা ভাইয়া। . পিচ্চির ও একটা প্রেমিকা আছে। আর আমার কপালে কি আছে আল্লাহই জানে। প্রেমিকা তো দুরের কথা একটা মেয়ে বন্ধু আছে নাকি সেটাতেও সন্দেহ। ভার্সিটি এত মেয়ে ছিলো, আমার সাথেই কোন মিশতো না। অবশ্য একদিন একটা মেয়ে বলেছিলো আপনি খুব বোরিং একটা পারসন, আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না। হয়ত কথা টা সত্যই ছিলো। তাই আমাকে দিয়ে প্রেম কিংবা বন্ধুত্ব হলো না। আর এখন শেষ বয়সে আমার ভিমরুতি জাগছে মনে। এসব ভাবতে ভাবতে আবিদ বাড়ির সামনে চলে আসলো। বাসায় ঢুকে কোনমতে খাওয়া দাওয়া সেড়েই কম্পিউটারে ফেসবুক চালু করল। হায়রে দুনিয়া যেখানেই যাই শুধু প্রেম আর প্রেম ফেসবুকে শান্তি পাইলাম না। পোলাপাইন রিলেশন স্ট্যাটাস দিয়া ভইরা ফালাইছে। এসব দেখে আবিদ খুব বিরক্ত অনুভব করলো এবং শুয়ে পড়ল। . আবিদের দিনগুলো বড়ই যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দেখতে দেখতে ১ মাস কেটে গেলো, না কোন কাজের সন্ধান করতে পারলো না অর্পাকে মনের কথা টা জানাতে পারলো। অর্পার জন্য আবিদ আপ্রান চেষ্টা করছে একটি ভালো চাকুরী পাওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে অর্পার দু এক জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব ও এসেছে। এই সমস্ত খবর আবিদের বোন তিতলি নিয়ে আসে। আর আবিদ ভেঙ্গে পড়ে, অর্পাকে হারিয়ে ফেলার এক নিদারুন ভয় কাজ করে মনের ভিতর। আবিদ কিভাবে অর্পা কে গিয়ে তার ভালোবাসার জানান দিবে। তার কাছে কিছুই নেই, এখনও বাবা- মায়ের উপর নির্ভরশীল এমন একটি ছেলে কি করে আরেকটি মেয়ে কে বিয়ের কথা কিংবা ভালোবাসার কথা বলবে। . বাসার ছাদে বসেই আবিদ এসব চিন্তা করছে এমন সময় বাবার একটি ফোন আসলো ফোন টা রিসিব করে সালাম দেওয়া মাত্রই বাবা বলে উঠলো যেখানে যে অবস্থাতেই থাকো এখুনি আমার অফিসের সামনে আসো। আবিদ বাবার কথা শুনে একটু ভয় পেয়ে গেলো, বড় কিছু হয়নি তো, বাবা তো এভাবে আমাকে কখনও ডাকে না, তবে আজ হঠাৎ এভাবে কেন ডাক দিলো? এসব কথা ভাবতেই গায়ের পোশাক টা পরিবর্তন করে বাবার অফিসের দিকে রওনা হলো। সেখানে গিয়ে বাবার সামনে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো == ০- বাবা তুমি আমাকে এত জরুরীভাবে কেন ডাকলে? == তোর জন্য একটি সুখবর আছে!! ০- কিসের সু খবর বাবা? == তোর চাকরী হয়ে গেছে। তোর একটা সিভি আমি জমা দিয়েছিলাম আমাদের অফিসে আমার রেফারেন্সেই তোর চাকুরী টা হয়ে গেলো। ০- সত্যি বলছো বাবা!! == হ্যা রে বাবা সত্যি বলছি। আর শুধু এটা নয় আরেকটা সুখবর আছে। ০- কি বাবা? == সেটা আমি বাসায় গিয়ে বলব, এই যে এপোয়েনমেন্ট লেটার, এখানে সই করে দে। ০- আচ্ছা বাবা দেও। == আচ্ছাশোন তুই কোথাও যাইস না, আমি কাগজ টা জমা দিয়ে আসতেছি তোর সাথে আমার আরও জরুরী কিছু কথা রয়েছে। ০- ঠিক আছে বাবা। . এই কথা বলেই আবিদের বাবা অফিসের ভিতর ঢুকে গেলো। এবং ১০ মিনিট পর চলে আসলো। আর এসে আবিদ কে বলতে লাগলো, তোর সাথে আমি অনেক শক্ত ভাবে চলেছি, কারন তুই যেন কোন খারাপ রাস্তায় না যাস, আজ আমি তোকে বাবা হিসেবে নয়, একজন ভালো বন্ধু হিসেবে কিছু প্রশ্ন করবো, আশা করি তুই আমার কাছে মিথ্যে কথা বলবি না। ০- কি এমন কথা বাবা যার জন্য তুমি এভাবে কথা বলতেছো? == এখানে না চল পার্কে গিয়ে বসে বাপ- ছেলে বাদাম খাবো আর কথা বলব। ০- ঠিক আছে বাবা চলো। . আবিদ আর তার বাবা হাটতে লাগলো মিনিট ১৫ এর মধ্যে পার্কে চলে আসলো। গাছের নিচে ব্যাঞ্চের উপর বসে আবিদ কে বলতে লাগলো== == আচ্ছা তুই কি কাউকে ভালোবাসিস? ০- হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন? == আমি যা জানতে চেয়েছি সেটা বল। ০- না বাবা এমন কেউ নেই। == না থাকাই ভালো, তোর মা তোর জন্য একটি মেয়ে দেখেছে, মেয়েটা খুবই ভদ্র এবং সুশ্রী আমারও খুব পছন্দ হয়েছে, শুধুমাত্র তোর চাকুরী ছিলো না বলে তোকে জানানো হয় নি। অবশ্য এই মেয়েকে তোর বোন তিতলিও খুব পছন্দ করে। আর তিতলি মনে প্রানে চায় এই মেয়ের সাথে তোর বিয়ে হোক, আর আমিও চাই। ০- বাবা তিতলি আমার ছোট বোন, তুমি ওর পছন্দকে এত প্রাধান্য দিলে, আমারও তো পছন্দ বলতে কিছু রয়েছে। == আমরা তো বলিনি তোর পছন্দ থাকবে না। অবশ্যই তোর পছন্দ থাকবে, কিন্তু তোর পছন্দ হোক বা না হোক বিয়ে তোকে এই মেয়েকেই করতে হবে। যদি অন্যকেউ থাকে তাকে তোর জীবন থেকে সরিয়ে ফেল। আর একটি কথা তুই কি কখনও জানতে চেয়েছিস তিতলি এত অসুস্থ্য কেন থাকে। ওর মেজর সমস্যা কি? ০- ও তো ঠান্ডা পানি অনেক খায়, তাই জ্বর লেগেই থাকে ওর। এটা না জানার কি আছে। == না আবিদ তুই পুরোটা জানিস না তাহলে, অর্ধেক টা জানিস। তিতলির মুলত ব্লাড ক্যান্সার কারনে তিতলি এত ঘন ঘন অসুস্থ্য থাকে। ০- তুমি এগুলো কি বলছো বাবা, আমার বিশ্বাস হয় না। == এটা তো আমারও বিশ্বাস হয় নি, কিন্তু মেডিকেল রিপোর্ট দেখার পর না বিশ্বাস করে পারলাম না। আর তিতলি নিজেও এই কথা জানে না। ০- মানে কি বাবা এগুলো সব মিথ্যে তুমি বলো এগুলো মিথ্যে, আমাকে তোমাদের পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য এই কথাগুলো বলতেছো। আমি কথা দিচ্ছি বাবা আমি তোমাদের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করবো। কিন্তু তুমি এসব কথা বলিও না। == এই দেখ মেডিকেল রিপোর্ট আজকেই হাতে পেয়েছি। তোকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করার জন্য কি এত বড় মিথ্যে আমি বলতে পারি। আমি নিজেকে কিভাবে ধরে রাখছি তা একমাত্র আমি আর আমার আল্লাহ জানে। আমি শুধু পারতেছি না চিৎকার করে কান্না করতে। আবিদ মেডিকেল রিপোর্ট দেখে যেন আসমান থেকে পড়লো। এত ভালো একটা সুসংবাদের সাথে এত বড় একটা দুসংবাদ সে কখনও আশা করে নি। তার চাকুরী পাওয়ার সমস্ত আনন্দ নিমিষেই ভেনিষ হয়ে গেলো। মনের ভিতর এক কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠলো। এই কষ্টকে বুকে ধরেই তাকে সামনের দিনগুলো চলতে হবে। . আবিদ এবং তার বাবা কথা শেষ করে বাসার দিকে ফিরে আসলো। বাসায় আসতেই তিতলি দরজা খুলে দিলো, এবং আবিদ কে জড়িয়ে ধরলো আর বলতে লাগলো কনগ্রাচুলেশন ভাইয়া, তোমার চাকুরী হয়ে গেছে আজ আমি অনেক অনেক হ্যাপি, এখন আমাদের ঘরে ভাবী আসবে, তোমার ছেলে মেয়ে হবে আমি সারা দিন তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবো। তখন তোমাকে সময় দিতে পারবো না বলে, মন খারাপ করবে না কেমন? এসব কথা শুনতেই আবিদের চোখের কোনে পানির ঝলকানি দিয়ে উঠলো, কোনভাবে নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারলো না। নিশ্চুপ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো, দু চোখ থেকে গড় গড় করে পানি ঝড়তে লাগলো। তার আদরের ছোট বোনটি মরনব্যাধি তে আক্রান্ত তারপরেও ওর আনন্দের সীমা নেই। ভাইয়ের চোখে পানি দেখে তিতলি বলে উঠলো== ০- ভাইয়া তুই কাদছিস কেন? == এমনিতেই এ যে আনন্দের কান্না, চাকুরী পেয়েছি আমার থেকে তুই এত বেশী খুশি হয়েছিস তা দেখে নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। ০- ধুর ভাইয়া তুই না একটা ব ল দ = বলদ। তুই চাকুরী পেলে আমার থেকে বেশী খুশি তো তোর বউও হবে না। তোর বউ তো বিয়ের পর জানবে তুই কিছু করলে, আর আমি তো তোর রক্তের বোন, তোর ভালো কিংবা খারাপ যাই হোক না কেন আমিই সবার আগে জানবো। তোর আনন্দে আমি দ্বিগুন আনন্দ হবো, আর তোর কষ্টে আমি তিনগুন বেশী কষ্ট পাবো। আর তুই যদি এখন কান্না করিস আমিও কিন্তু কেদে দিবো। এই বলেই তিতলি হাউ মাউ করে চিৎকার দিলো, আর মুহুর্তেই আবিদের মুখে হাসির ঝলকানি ফুটিয়ে তুলল। আবিদ আলতো করে বোন কে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তার কপালে একটি ভাই-চুমু দিয়ে দিলো। এসব কান্ড কারখানা দেখে, আবিদের মা এবং তার বাবাও ভালোবাসার অশ্রু বিসর্জন দিয়ে দিলো। এমন একটি পরিবার যেন সকলের হয় এই কামনাই করি আবিদের বাবা বলে উঠলো কথা। . তিতলি কথার মাঝেও ফাক ধরে বলল, বাবা এমন দোয়া করিও না, তাহলে আমার ভাইয়ের মত আরো অনেক কপি ভাই হয়ে যাবে, আমার সমস্ত ভালোবাসা আমি শুধুমাত্র এই ভাইকেই দিতে চাই, অন্য কাউকে দিতে পারবো না। কথাটা শুনে সবাই উচ্চহাসিতে মাতল হয়ে গেলো। তারপর তারা সবাই একসাথে খেতে বসল। আজ তিতলি আবিদ কে খাইয়ে দিবে বলে বায়না ধরেছে। আবিদও শায় দিলো। তিতলি ভাইকে খাইয়ে দেওয়ার পর আবিদ তার রুমে চলে গেলো, আর তিতলির কথা ভাবতে লাগলো। কিভাবে আল্লাহ এতটা নিষ্ঠুর হলো, আমার ফুলের মত বোন কে সে কেন এত বড় শাস্তি দিচ্ছে। এই রোগ আমার বোনকে না দিয়ে আমাকে দিলেই কি হতো। আবিদ কিছুতেই ঘুমাতে পারছে না। কাল থেকে অফিস আছে কালকেই জীবনের প্রথম অফিস করতে যাবে আবিদ, সে চাকুরীর জন্য এত দুশ্চিন্তায় ছিলো, এখন সেই চিন্তা নেই, কিন্তু তার থেকে বড় দুশ্চি্ন্তা আবিদ কে পেয়ে বসল। . রাত প্রায় ১ টা বাজে, আবিদের চোখে ঘুম নেই। তাই আবিদ বাসার ছাদে চলে গেলো। সেখানে গিয়ে রেলিং এর পাশে দাড়িয়ে একটি সিগারেট ধরালো। তার মনের মাঝে বার বার তিতলীর কথা উকি দিয়ে যাচ্ছে। তিতলির কথা ভাবলেই আবিদের চোখ ছল ছল হয়ে উঠে, আর নাকের পাশ দিয়ে ধীর গতিতে গড়িয়ে পড়ে তার অস্রু। এরই মধ্যে অর্পা এসেছে, ছাদের উপর এসেই আবিদ কে বলতে লাগলো == ০- এই যে পরিবেশের দুশমন, আবার পরিবেশ কে নষ্ট করার কাজে নেমেছেন। আবিদের কোন লক্ষ্য নেই, তাই সে কথাটাকে অতটা গুরুত্ব দিলো না, অর্পার দিকে একবার তাকিয়ে, আবার সিগারেটে টান দিলো। অর্পা বুঝতে পারে আজ আবিদের মন খুবই খারাপ তাই নিচু স্বরে বলল, কি হয়ে আপনার? আমাকে বলা যাবে কি? == আবিদ ছলছল চোখে তার পানে তাকিয়ে বলতে লাগলো তেমন কিছু না। আপনি এত রাতে ছাদে কেন আসলেন? ০- আসলে আমার ঘুম পাচ্ছিলো না, তাই ভাবলাম একটু বাহিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক বাতাসের সাধ গ্রহণ করি। আর চন্দ্র তারাদের খেলা দেখি। আপনি কেন আসছেন? == আমি এসেছি আমার কিছুই ভালো লাগছে না। আমার জীবনে এমনও খবর শুনতে হবে আমার জানা ছিলো না। ০- কি হয়েছে এমন যার কারনে আপনি এতটা ভেঙ্গে পড়েছেন? . আবিদ সবকিছু অর্পাকে বলতে লাগলো, তার মনের কষ্ট ভাগ করার মত কেউ নেই, তাই অর্পাকে বেছে নিলো, তার কথাগুলো জানানোর। সে কোথাও শুনেছে কারো সাথে কষ্ট শেয়ার করলে নাকি, কষ্ট কম হয়। তাই সে অর্পার কাছে তার সব কথাগুলো জানাতে লাগলো। এভাবে রাত্রী পার হয়ে গেলো। অর্পা সমস্ত কথা শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। দুই জন দুই বাড়ীর ছাদে তারপরেও চাদের আলোতে দুজনের চোখের পানি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। দক্ষিনের বাতাস থমকে গেলো, প্রাকৃতি ভারী একটা রুপ নিলো, চারিদিকে নিঃস্বতব্দ, কিন্তু মনের ভিতর পাহার সমান কষ্টের মাড়াই হচ্ছে। তলপার হয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের সমস্ত অনু পরমানুগুলো। অর্পা তাকে কোন ভাষায় শান্তনা দিবে সে বুঝতে পারছে না। আবিদের সাথে সেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। একে অপরের সাথে কথা বলেই ফজরের আযান দিয়ে দিলো। তখন অর্পা বলতে লাগলো == . ০- আপনি চিন্তা করবেন না, নামাজ পড়ুন আর দোয়া করুন সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এখন গিয়ে একটু রেস্ট নিন, সকালে আপনার অফিস আছে, জীবনে প্রথম চাকুরী তে যাচ্ছেন মন খারাপ করে যাবেন না। হাসিখুশি ভাব নিয়ে সবার সাথে মিশবেন। আর আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন সব ঠিক হয়ে যাবে। এই কথা বলেই অর্পা এবং আবিদ একে অপরের থেকে বিদায় নিয়ে যে যার বাসায় চলে গেলো। আবিদ বিছানায় গা হেলিয়ে দিলো কিছুক্ষনের মধ্যে তার চোখ বুজে গেলো, একবুক কষ্ট আর যন্ত্রনা নিয়েও সে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো। না ঘুমালে কাল সকালে তো অফিস করতে পারবে না। . আজ আবিদের প্রথম দিন চাকুরীর। নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে সকাল ৮ টার দিকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, তার জীবনের প্রথম অফিসের ব্যস্ততা, সে কিভাবে কাটাবে, সবার সামনে কিভাবে উপস্থান করবে এ নিয়ে তার চিন্তার যেন শেষ নেই। বাস্তব জীবনের আজ প্রথম পদক্ষেপ তার, সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ড এ দাড়িয়ে রইলো। সেখানে তার আগে থেকেই আরো হাজারো মানুষের সমাগম রয়েছে। গাড়ী সবগুলো হাউজফুল, সবার সাথে যুদ্ধ করে একটি গাড়ীতে উঠলেও, বসার স্থান পেলো না। দাড়িয়ে দাড়িয়ে আজ প্রথম অফিসের জীবনের যাত্রা শুরু করলো। তার উপর ট্রাফক জ্যাম যেন অসহ্য লাগছে আবিদের কাছে। তাই সে অন্যসবার দিকে একবার মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো, সকলেই নিশ্চুপ ভাবে বসে রয়েছে। কেউবা পত্রিকা নিয়ে ব্যবস্ত আছে, কেউ মাঝে মাঝে বলে উঠছে, এ দেশ আর সুধরালো না। আবিদের কাছে তার গলার টাই যেন ফাসির কাষ্টের দড়ির মত মনে হচ্ছে। তাই একবার ভাবলো খুলে জানালা দিয়ে ফেলে দেই, কি এসব ঝামেলা চাকুরী করতে গেলে পহাতে হয়। আগের জীবনটাই তো ভালো ছিলো। . ২ ঘন্টা সে গাড়িতে দাড়িয়ে অতিক্রম করে ফেললো, গাড়ী মতিঝিল চলে আসলো গাড়ী থেকে নেমে অফিসের সামনে গিয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে রইলো। এরই মধ্যে একজন ভদ্রলোক বের হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো ০- জনাব এখানে দাড়িয়ে রয়েছেন কোন চাকুরী জন্য কি? এই অফিসে কোন কর্মস্থান খালি নেই আপনি অন্য কোথাও খোজ করতে পারেন। == আসলে আমি চাকুরী খুজতে আসিনি, আমি এই অফিসে নতুন জয়েন করেছি, ডিপুটি ডিরেক্টর হিসেবে” ০- আসসালামু আলাইকুম স্যার, তো আপনি এখানে দাড়িয়ে আছেন কেন? আসেন স্যার ভিতরে আসেন, আপনার অপেক্ষাতেই সবাই রয়েছে। == একটু আনইজি লাগছে তাই এখানে দাড়িয়ে রয়েছে। ০- কি জে বলেন স্যার, আপনি এখানকার এক উচ্চকর্মপদস্থ কর্মকর্তা, আপনি যদি এমন কথা বলেন তাহলে আমরা কি বলবো। চলুন স্যার আপনি আমার সাথে চলুন, আমি সকলের সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবো। . এই কথা বলে ভদ্রলোক তাকে অফিসের ভিতরে নিয়ে গেলো, এবং সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। সবাই তাকে স্যার স্যার বলে সন্মোধন করতে লাগলো। আবিদের কাছে এই স্যার শব্দটি খুবই বিরক্ত লাগছিলো, যদি সবাই স্যার না বলে, আবিদ ভাই কিংবা তুই করে বলতো তাহলে হয়ত খুব ভালো লাগতো। কিন্তু কিছু করার নেই, হয়ত অফিসের নিয়ম এটাই সবাইকে স্যার বলে ডাকা। তাই আবিদ তার নিচু কর্মস্থলের কর্মকর্তাকেও স্যার বলে ডাকা শুরু করলো, এমনিকি অফিসের যে পিয়ন তাকেও সে স্যার বলে ডাকলে, তাদের মধ্যেই এক বয়স্ক কর্মকর্তা তাকে জানালো ০- স্যার আপনি এখানকার ডিপুটি ডিরেক্টর, অনেক বড় একটি পদ নিয়ে আছেন। আপনি আমাদের কে নাম ধরেই ডাকতে পারেন।” ==আবিদ তার কথা শুনে একটু অবাক হয়ে গেলো, আর বলতে লাগলো, আমি আপনার নাম ধরে কি করে ডাকি, আপনি তো আমার বাবার বয়সী হবেন, আমি তো আমার বাবাকে নাম ধরে ডাকি না, তবে আপনাকে নাম ধরে কেন ডাকবো। আবিদের কথা বয়স্কলোকটি একটু আবেগী হয়ে পড়লো, আর তার কথার কোন উত্তর দিতে না পেরে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো। তখন আবিদ বলতে লাগলো == দেখুন এখানে আমরা সকলে এক সমান না, কিন্তু এটা শুধু অফিস না, এটা আমাদের জীবন চাহিদার একটি রাস্তা, এখানে আমি উচ্চ পদের কর্মকর্তা হলেও, এই অফিসের একটি সদস্য, আর এটা শুধু একটি অফিস না, এটা একটি পরিবার, এখানে আমরা সকলেই মিলে মিশে কাজ করে, এই অফিসকে সুনামের শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবো। আর এখানে যতটুকু সম্মান আপনারা আমাকে দিচ্ছেন, আমারও উচিত ততটুকু সম্মান আপনাদেরকে দেওয়া। . আবিদের কোথায় সকলের মন ছুয়ে যায়, সবাই তাকে ভালোবাসার এক অন্য দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। আবিদ তার জীবনের প্রথম চাকুরীর দিনেই সকলের মন জয় করে নিলো। এ এক অবাক করা বিষয় হলেও এটাই সত্যি। আবিদ খুবই নম্র এবং নরম মেজাজের ছেলে, তার প্রতিটি কথা মানুষের হৃদয় ছুয়ে যাওয়ার মত। আজও তাই হলো, প্রথম দিনেই সে সকলের ভালোবাসার একটি মানুষ হয়ে উঠলো। . সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততা সেরে সে বাসায় ফিরে আসলো। বাসায় আসতেই আবিদের বোন তিতলি তাকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো, আর বলতে লাগলো, আমার ভাই আজ অফিসার হয়েছে, আমার ভাই আজ থেকে কাজ করতে শিখেছে, আমার ভাই এখন অনেক বড় হয়েছে, এগুলো বলতে লাগলো আর তাদের মা কে ‍উচ্চস্বরে ডাকতে লাগলো। তিতলির কথার আওয়াজ শুনে তার মা ছুটে আসলো আর বলতে লাগলো ০- কি হয়েছে এভাবে চিৎকার করছিস কেন? == মা আজ ভাইয়া কে কত সুন্দর লাগছে দেখো, আজ যে আমার ভাই অফিসার হয়েছে, আজ থেকে তোমাদের আর চিন্তা নেই, ভাইয়া কে একটা বিয়ে করিয়ে দিয়ে, তোমরা রাজা-রানীর মত ঘর শাসন করবে, আর ভাইয়ার ছোট বাবুকে নিয়ে খেলবে, আর আমি তোমাদের সকল কে পাহারা দিবো। (তিতলি কান্না করতে লাগলো আর এসব বলতে লাগলো) ০- সব কিছু ভাইয়ার জন্য, এমন ভাই পাগল বোন আমি কোথায় দেখিনি, আল্লাহ তোদের বাচিয়ে রাখুক, আমার মাথার চুলের পরিমান হায়াত আল্লাহ তোদের দুজনের দেক (আবিদের মা অস্রুসজল চোখে কথা গুলো বলতে লাগলো আর চোখ মুছতে লাগলো।) ০০- এরই মধ্যে আবিদ বলে উঠলো, তিতলি, মা তোমারা কি শুরু করছো, এভাবে কান্না কাটি কেন করতেছো, (আবিদ ছলছল চোখের কোনে পানি নিয়ে কথাগুলো বলতে লাগলো।) ০- না রে বাবা এ চোখের পানি কষ্টের পানি না, সুখের পানি, তোদের ভাই বোনের ভালোবাসা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। এমন সন্তান যেন আল্লাহ সবার ভাগ্যে লিখে দেয়, তাহলে এই পৃথিবীতে কষ্ট নামক কোন কথা থাকবে না। এরই মধ্যে ত�
Related Post
  1. › hi
  2. › বাসায় যখন বিয়ের কথা চলে
  3. › আজ মেয়ে দেখতে আসবার পর মেয়েকে আর আমাকে যখন আলাদা করে ছাদে পাঠানো হলো কথা বলার জন্য
  4. › টক মিষ্টি ঝাল ঝাল ভালোবাসার গল্প
  5. › অনীলার একদিন

Leave a Reply

Topics

Blogroll