Search
You Have Notification
Home » Category » Life Story
বাসায় যখন বিয়ের কথা চলে Posted by , 6 months ago, 15 Views
বাসা থেকে আমার বিয়ের জন্য কথাবার্তা চলতেছে ; তোমার কি কিছুই করার নেই? –(নিশ্চুপ) –কি হলো,কিছু বলছোনা যে? এভাবে চুপ করে বসে থাকলে হবে? আমার সোজা সাপ্টা কথা,বিয়ে করলে তোমাকেই করবো ; নয়তো আত্মহত্যা করবো। –কি জাতা বলছো এসব। সিচুয়েশনটাতো বুঝতে হবে তোমাকে। দেখো নিহা,তোমরা হচ্ছো সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ। আমার মতো নিম্নশ্রেনীর একটা ছেলে তোমার ভালোবাসা পেয়েছি এটাই আমার কাছে চাঁদ পাবার মতো। কিন্তু এখন যে আমি তোমাকে বিয়ে করবো বা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তোমার বাবার সামনে গিয়ে দাড়াবো সেই সম্বলটুকু নেই আমার। গ্রামে মধ্যবয়সী বাবা-মা থাকে। তারা আমার উপর ভরসা করেই বেচে আছে। এখন যদি আমি ভুলভাল কিছু করে বসি,তবে তাদের দেখাশুনা করার জন্য আর কেউ থাকবেনা। মা-বাবাকে কষ্ট দিতে পারবোনা আমি। তারা আমাকে অনেক কষ্ট করে খাইয়ে,পরিয়ে বড় করেছে। –আচ্ছা তাহলে এটাই তোমার শেষ কথা? –হা,পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমার যোগ্য না,তাই হয়তো আমার সাথে তোমাকে দু’মুটো ডাল-ভাত খাওয়ার সুযোগ দিতে পারলামনা। তোমার বাবার ঠিক করা ছেলের সাথে অনেক সুখি থাকবে তুমি। –ব্যস ব্যস,অনেক হয়েছে। গেলাম আমি। তুমিও ভালো থেকো। নিহা চলে গেলো। . . এতোক্ষন নদীর পারে বসেছিলো নিহা ও শাওন। সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত। আকাশের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলো শাওন। কারণ সে নিহার চোখের দিকে তাকিয়ে কখনোই বলতে পারতোনা এই কথাগুলো। বড্ড বেশি ভালোবাসে যে মেয়েটাকে। মেয়েটার কাদু কাদু মুখ দেখলে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বুকে পাথর চাপা দিয়ে এই কড়া কথাগুলো বলতেই হলো তাকে। এ ছাড়া তার কাছে দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই। গরীবদের আবার ভালোবাসা কিসের! কোনোরকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেচে থেকে জীবনটা পার করে দেওয়ার জন্যই বোধহয় গরীবদেরকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। . . শাওন আর নিহার সম্পর্ক হয়েছে আজ ৪ বছর হলো। একই কলেজে পড়তো তারা,সেখানেই তাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো। শাওন গ্রামের ছেলে। গ্রামের স্কুলেই এসএসসি পাস করেছে। একটাই ছেলে তার বাবা-মার। তাদের ইচ্ছা ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে অনেক বড় করবে। সেজন্যই শহরের কলেজে ভর্তি করিয়েছিলো। তার পড়াশুনার খরচ চালাতে তার বাবাকে জমি-জামা বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো। . . শাওন মেধাবী ছাত্র। সবসময় ক্লাসের ফাষ্ট বয় ছিলো। কিন্তু সবসময় চুপচাপ থাকতো। কারো সাথেই তেমন কথা বলতোনা। একদম টিচার ক্লাসে ঢুকার সাথে সাথে ক্লাসে আসতো,আবার ক্লাস শেষ হলেই সোজা হোস্টেলে চলে যেতো। ক্লাসের সবাই ভেবেছিলো কোনো ক্ষেত ছেলে,সবদিক থেকেই নিম্ন শ্রেনীর ; তাই কেউ তেমন কথা বলতেও আসতোনা। কিন্তু প্রথম সাময়িক পরীক্ষাতে যখন প্রথম স্থান অধিকার করলো,তখন তার আর বন্ধুর অভাব হলোনা। সবাই নিজের ইচ্ছায়ই মিশতে আসতো তার সাথে। . . তার নিশ্চুপ সাদাসিধে ব্যবহার,টেলেন্ট ,চলাফেরা, এসব দেখেই নিহা তার প্রেমে পরে গিয়েছিলো। শাওনের কোনো ইচ্ছেই ছিলোনা নিহাকে ভালোবাসার। সে জানতো শেষ পর্যায়ে এরকম কিছুই হবে। কারন সে গরীব আর নিহা বড়লোক বাবার আদুরী মেয়ে। কিন্তু নিহার আকুতি-মিনুতি তাকে নিহার প্রেমের জালে ফাসিয়ে দিয়েছিলো। নিহাও তাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু বরাবরের মতোই শাওনের যুক্তির কাছে হেরে যায় সে। . . রাত ১১ টা, বিছানায় এপাশ ওপাশ করছে শাওন। নিহার জন্য খুব খারাপ লাগছে তার। ৪ বছর রিলেশন করার পর নিহা এখন অন্যের বউ হয়ে যাবে! ভাবতেই নিজেকে কাপুরুষ মনে হচ্ছে শাওনের। আর দেশটাই কেমন আজব! এমন একটা মেধাবী ছেলে মাস্টার্স পাশ করে বেকার বসে আছে,ঘুষের জন্য চাকরী পাচ্ছেনা। একটা চাকরী পেলেও নিহার বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ানো যেতো। নিজের প্রতি খুব রাগ হচ্ছে শাওনের। এগুলো ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পরলো। . . সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ফোনে একটা ম্যাসেজ এসেছে। গত ৩ দিন আগে সে একটা কোম্পানীতে চাকুরীর জন্য ইন্টার্ভিউ দিয়েছিলো,সেখান থেকেই এসেছে ম্যাসেজটা। তাকে ওই কোম্পানীতে ডেকেছে। সে অনেক খুশি হলো। আজ কিছু ভাইবা নিতে পারে,যদি সিলেক্টেড হয়ে যাই তাহলেই চাকুরী ফাইনাল। অনেক ভালো একটা চাকুরী। হাতছাড়া করা যাবেনা। . . শাওন তার বাবা-মায়ের কাছে ফোন করে দোয়া চাইলো। তারপর রেডি হয়ে নিজের সব সিভিগুলো নিয়ে রওনা দিলো অফিসের উদ্দেশ্যে। তার আজ সবচেয়ে খুশির দিন,তার কেনো জানি মনে হচ্ছে চাকুরিটা হয়ে যাবে। . . অফিসে এসে ১০০ জনের সাথে সে ইন্টার্ভিউ দিলো। ১০০ জন থেকে মাত্র ৫ জনকে চাকুরী দেবে। ১ ঘন্টা পর রেসাল্ট দেবে,সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছে। শাওনের খুব টেনশন হচ্ছে। ভাবছে আজ চাকুরীটা হয়ে গেলে নিহাকে আর হারাতে হবেনা। . . একটু পর সবার মাঝে থেকে ৪ জনকে ডেকে নেওয়া হলো। তাদের চাকুরী কনফার্ম। শাওনকে এখনো ডাকা হয়নি। আর ৯৬ জনের মধ্য থেকে একজনকে নেবে। শাওন খুবই চিন্তিত। এইতো শাওনকে ডাকা হলো। শাওনের মুখে হাসি ফুটলো। অন্য ৪ জনের চেয়ে আরো উচ্চ পসিশনে চাকুরী হয়েছে তার। সে অনেক অনেক খুশি আজ। . . সে সাথে সাথে কল করে তার মা-বাবাকে সুখবরটা জানালো। তারাও অনেক খুশি হয়েছে। তাদের স্বপ্ন আজ পূরন হয়েছে। তারপর নিহাকে কল করে সব বললো। নিহাতো মহাখুশি। সে তার বাবাকে বললো শাওনের চাকুরী হয়েছে। তারপর তার বাবা বললো শাওনের বাবা মাকে নিয়ে তাদের বাসায় আসতে। . . ২ দিন পর শাওনের বাবা-মা গ্রাম থেকে আসে। তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। ১ সপ্তাহ পরেই ধুমধাম করে বিয়ে হয়। এখন তারা বাসর ঘরে,বাকিটা গোপনই থাক
Related Post
  1. › hi
  2. › আজ মেয়ে দেখতে আসবার পর মেয়েকে আর আমাকে যখন আলাদা করে ছাদে পাঠানো হলো কথা বলার জন্য
  3. › টক মিষ্টি ঝাল ঝাল ভালোবাসার গল্প
  4. › বাসার ছাদ থেকে ঢাকা শহর টা বেশ সুন্দরই লাগছে
  5. › অনীলার একদিন

Leave a Reply

Topics

Blogroll